১২ শীর্ষ ব্যবসায় বেনামে অংশীদারিত্ব ।। ব্যবসার জন্য মামুন ও সেলিমকে তারেক রহমান দিয়েছিলেন ৫৮২ কোটি টাকা
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান ব্যবসা করার জন্য সাবেক এমপি এম এইচ সেলিম এবং গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে ৫৮২ কোটি দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ১২টি শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তিনি ছিলেন বেনামি অংশীদার। ওই ১২টি প্রতিষ্ঠানকে তারেক রহমান গত ৫ বছরে অবৈধভাবে শত শত কোটি টাকা মুনাফার সুযোগ করে দিয়েছেন। জয়েন্ট ইন্টরোগেশন সেলে এ ব্যাপারে তিনি তথ্য প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের ৮টি দেশে তারেক রহমান যে পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন তার অংক শুনে জেআইসি কর্মকর্তারা ভড়কে গেছেন।
জানা গেছে, জোট সরকারের গত ৫ বছরে তারেক রহমান বিভিন্ন সময়ে গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে ব্যবসা করার জন্য ৩১২ কোটি টাকা দিয়েছেন। অন্যদিকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ানের চেয়ারম্যান, সাবেক এমপি এমএইচ সেলিমকে দেন ২৭০ কোটি টাকা। এই টাকা বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে এমএইচ সেলিম কয়েকশ কোটি টাকা মুনাফা করেন বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে। গত রোববার তারেক রহমান এ ব্যাপারে জেআইসিতে বিসত্দারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন। শুধু এই দুজনই নয়, আরো বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে তিনি ব্যবসা করতে বিপুল অংকের টাকা দেন বলে জানা গেছে। তার টাকা দিয়ে কানাডা প্রবাসী এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু সেখানে বিশাল ধনাঢ্য ব্যক্তি বনে গেছেন।
তারেক রহমান জেআইসি কর্মকর্তাদের কাছে গতকাল চীন, দুবাই, মালয়েশিয়া, ইন্দোনোশিয়া, থাইল্যান্ডসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। গতকাল জেআইসির ৮টি টিম আধা ঘণ্টা পর পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের দফায় দফায় জেরার মুখে তিনি হাঁপিয়ে উঠেছেন।
এদিকে যে ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তারেক রহমান যুক্ত ছিলেন তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ৫ বছরের আয় ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখা হবে। এর মধ্যে ২টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। একটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে গাড়ি আমদানি করে ৫ বছরে ১৭৪০ কোটি টাকার মুনাফা লুটেছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান সরকারকে কয়েকশ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। অন্যদিকে একটি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি একটি ব্যাংকের মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
জানা গেছে, তারেক রহমানকে আরো একাধিক মামলায় রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মামলা করতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা এখন এগিয়ে আসছেন। ব্যবসায়িক অংশীদার না করায় বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তিনি প্রতিহিংসাবশত পথে বসিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।


